![]()


দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০টি বাড়িতে চুরি ও চুরির চেষ্টা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। টিনের চাল কেটে, স্টিলের দরজা ছিদ্র করে এবং গ্রিল ও গেটের তালা ভেঙে এসব চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রূপা, মোবাইল ফোন ও কাপড়চোপড় নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ৬ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এলাকায় একাধিক চুরি ও চুরির চেষ্টা হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসেও কয়েকটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় বারবার একই কায়দায় চুরি হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে তপন সরকারের বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে চোরেরা। শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা জেগে উঠলে তারা পালিয়ে যায়। একই রাতে ভাড়াটিয়া শিক্ষক রাহুল তালুকদারের ফাঁকা বাসার স্টিলের দরজা ছিদ্র করে চুরি করা হয়। সেখান থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার কাপড়চোপড় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর আশীষ ভৌমিকের বাড়ির টিনের চাল কেটে ঘরে ঢোকে চোর। আলমারি খোলার সময় শব্দ হলে তিনি জেগে ওঠেন এবং চোর পালিয়ে যায়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক জয়সেন দাসের বাসার টিনের চাল কেটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে ৩১ আগস্ট দিলীপ দেবনাথের বাড়ির চাল খুলে স্বর্ণের চেইন, বালা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রসেন্দ্র সরকারের বাড়িতে বাঁশ দিয়ে উঠে ইটের চুলা ভেঙে ঘরে ঢোকে চোরেরা। সেখান থেকে মোবাইল ফোন, টর্চলাইট, প্রায় দুই ভরি রূপা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ৬ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিকেশ দাস, ফারহানদের ভাড়াটিয়া, নিবেশ দেবনাথ, তপন বিশ্বাস, সুশেন বিশ্বাস, ঝুমন চৌধুরী ও আব্দুল হামিদ সরদারের বাসায় চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আদনান আহমেদের বাসার বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, চোরেরা এলাকার বাড়িঘর ও বাসিন্দাদের চলাফেরা সম্পর্কে আগে থেকেই জানে। তাঁদের কেউ কেউ এসব ঘটনায় স্থানীয় বা আশপাশের এলাকার লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা প্রমাণের কথা জানা যায়নি। অনেক ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেও আগ্রহী নন বলে জানান স্থানীয়রা।
দিরাই পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নানু মিয়া চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হরিপদ দেবনাথ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। রাতে উঠতি বয়সী কিছু ছেলেকে দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশের রাতের টহল আরও দৃশ্যমান করার প্রয়োজন রয়েছে।
মুজিবুর রহমান বলেন, চুরি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
দিরাই পৌরসভার সাবেক প্রকৌশলী আশীষ তালুকদার বলেন, পৌরসভায় এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।
সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর একান্ত সচিব রুদ্র মিজান বলেন, সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এলাকায় টহল জোরদার এবং চিহ্নিত চোরদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো স্থানীয় চোরদের কাজ। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। মজলিশপুর ও আরামবাগ এলাকায় ভোর পর্যন্ত পুলিশের টহল থাকে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, পৌরসভা এলাকায় এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি রাতে পুলিশের দৃশ্যমান টহল বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক।